আপনি কি প্রতিদিন গোসল করেন? করলে আপনি একা নন। অনেক দেশে বেশিরভাগ মানুষই প্রতিদিন গোসল করে। কোথাও এই হার অনেক বেশি, আবার কোথাও অনেক কম। কিছু দেশে মানুষ সপ্তাহে মাত্র দুই–তিনবার গোসল করেই অভ্যস্ত।কিশোর বয়স থেকে অনেকেরই প্রতিদিন গোসল করার অভ্যাস তৈরি হয় এবং তা সারা জীবন চলতে থাকে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখি - কেন প্রতিদিন গোসল করি?অনেকে মনে করেন, কম গোসল করার চেয়ে প্রতিদিন গোসল করাই বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বিষয়টি সব সময় এমন নাও হতে পারে। অনেকের জন্য প্রতিদিন গোসল করা স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অভ্যাস বা সামাজিক নিয়মের অংশ। তাই বিভিন্ন দেশে গোসলের অভ্যাস এত ভিন্ন।
মানুষ কেন প্রতিদিন গোসল করে?
স্বাস্থ্য ছাড়াও প্রতিদিন গোসল করার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ আছে, যেমন—
- শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ে দুশ্চিন্তা
- ঘুম কাটিয়ে নিজেকে সতেজ অনুভব করা
- সকালের রুটিনের অংশ হিসেবে, যেমন ব্যায়ামের পর
এই কারণগুলো একেবারে অমূলক নয়। কারণ শরীরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ হলে ব্যক্তিগত বা কাজের সম্পর্কেও সমস্যা হতে পারে। তবে কোনটা গ্রহণযোগ্য, সেটা সংস্কৃতি ভেদে ভিন্ন। অনেক সময় আমাদের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস বিজ্ঞাপন ও প্রচারের প্রভাবেও তৈরি হয়। যেমন - অনেক শ্যাম্পুর বোতলে লেখা থাকে ‘লাদার, রিন্স, রিপিট’, অথচ একবার চুল ধুলেই সাধারণত যথেষ্ট।
স্বাস্থ্যের দিক থেকে দেখলে, প্রতিদিন গোসল করা যে খুব উপকার করে—এমন প্রমাণ খুব পরিষ্কার নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে প্রতিদিন গোসল করা ক্ষতিকরও হতে পারে।
প্রতিদিন গোসলের স্বাস্থ্যগত প্রভাব
স্বাভাবিক ও সুস্থ ত্বকে একটি প্রাকৃতিক তেলের স্তর থাকে এবং কিছু উপকারী জীবাণুও থাকে। গরম পানি দিয়ে বারবার গোসল করলে এগুলো ধুয়ে যেতে পারে। এর ফলে—
- ত্বক শুষ্ক, চুলকানিযুক্ত বা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে
- ফাটা ও শুকনো ত্বক দিয়ে ক্ষতিকর জীবাণু বা অ্যালার্জির উপাদান শরীরে ঢুকতে পারে
- অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান উপকারী জীবাণু নষ্ট করে দিতে পারে, ফলে ক্ষতিকর জীবাণু বাড়তে পারে
- আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা ময়লা, জীবাণু ও পরিবেশের সংস্পর্শে এসে শক্তিশালী হয়। খুব বেশি গোসল করলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা পড়তে পারে
এ ছাড়া গোসলের পানিতে লবণ, ক্লোরিন, ধাতু বা অন্যান্য রাসায়নিক থাকতে পারে, যেগুলোও ত্বকের জন্য ভালো নাও হতে পারে।
কম গোসল করলে কী হয়?
অতিরিক্ত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না হলেও, প্রতিদিন গোসল না করলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না। হ্যাঁ, কম গোসল করলে ত্বক কিছুটা কম শুষ্ক থাকতে পারে। প্রতিদিন গোসল স্বাস্থ্য উন্নত করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং এতে ত্বকের সমস্যা হতে পারে, পানি অপচয় হয় এবং সাবান, শ্যাম্পু বা সুগন্ধির কারণে অ্যালার্জিও হতে পারে।
তাহলে কতবার গোসল করা উচিত?
এর নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ মানুষের জন্য সপ্তাহে কয়েকবার গোসল করাই যথেষ্ট। খুব বেশি ঘাম হলে বা ময়লা হলে অবশ্যই বেশি গোসল করা যেতে পারে। সাধারণভাবে ছোট সময়ের গোসল, বিশেষ করে বগল ও গোপন অংশ পরিষ্কার করলেই অনেক সময় যথেষ্ট হয়।
যারা প্রতিদিন গোসলের অভ্যাসে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এটি বাদ দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে যদি শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই প্রতিদিন গোসল করে থাকেন, তাহলে এই অভ্যাসটি নতুন করে ভাবা যেতে পারে।
সূত্র : Harvard Health Publishing
Mytv Online